কবিতা

আলমগীর খোরশেদ এর কবিতা || ভালোবাসাময় শেষযাত্রা

পাখির মতো তাইরে নাইরে করা চন্চলা মন
আটকে আছে ” করোনা ” র গ্রাসে,
বাইরে বেরোনো বারণ, কোয়ারেন্টাইনে
জানালায় চেয়ে দেখা, নিশ্চুপ শহর রাজধানী ঢাকা।

ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন, চৌদ্দ এপ্রিল থেকে পঁচিশ
বৈশাখী উৎসব, পান্তা ইলিশ, রমনার বটমূল, নাগরদোলা
পড়ে আছে জন মানবহীন, নিঃসঙ্গ, একা,
টেলিভিশনে আপডেট, করোনার কাছে হার মানা চুরাশিটি প্রাণ।

লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, ভেন্টিলেটর
অনভ্যস্ত শব্দগুলো থামিয়ে দেয়, অবারিত চলা,
বুকের ভিতর খামচে ধরে, হারানো বা হারিয়ে যাবার ভয়,
এমন কষ্টভরা ক্রান্তিকাল, দুচোখ দেখেনি কভূ।

বাইরে অভাবী, ক্ষুধা পীড়িত মানুষের সারি
ত্রাণ নিয়ে চলে কতো মানবিক বিপর্যয়,
খাটের নীচে যেনো ভোজ্য তেলের খনি
নিম্নমধ্যবিত্তের চোখের চাহনীতে, হাজারো অসহায়ত্ব।

নিউইয়র্ক, স্বপ্নের আমেরিকা যেনো মৃত্যুপুরী
হিমশিম খাওয়া প্রশাসন, কিংকর্তব্যবিমূঢ়,
হঠাৎ চোখ আটকে থাকে টেলিভিশন পর্দায়
করোনায় শয্যাশায়িনীকে মোবাইল ভিডিও কলে
সামনে ধরে রাখা অসুস্থ স্বামীর ছবি
একই হাসপাতালে ভর্তি দুজন, জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

স্বাস্থ্যকর্মীগণ স্ট্রেচারে, ঠেলে নিয়ে যাবার পথে
স্যালাইন, নাকে নল, মুখে পাইপ পড়া রোগিণী,
স্বামীকে দেখার প্রাণপণ চেষ্টা, হাতটা হালকা উঁচিয়ে
তারপর কি ঘটলো, আর হলোনা জানা।

হতে পারে এটাই ওদের, শেষ ভালোবাসার অনুভূতি
দীর্ঘদিনের সংসার, কতো কথা, অনুরাগ, খুনসুটি, অভিমান,
সুখ দুঃখ ভাগ করে কাটিয়ে দেওয়া, প্রবাসজীবন।

ব্যক্তিগত, ফিনানসিয়াল তথ্য, অসুস্থ বাবা, মা
বসুন্ধরা, রাজউক বা মধুমতিতে প্লটের ফাইনাল কিস্তি জমা,
রেজিষ্ট্রি, ক্রেডিটকার্ডের পেমেন্ট ডিউ ডেট,
দেশ থেকে ভাই, শ্যালক আসার ভিসা প্রসেসিং আপডেট
কিংবা সংসারে নতুন অতিথি আসার গোপন কথাটি
বলবে বলে আর বলা হলোনা কারোর।

বাসায় অপেক্ষায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা, অবুঝ সন্তানেরা
যারা ওদের দাম্পত্য জীবনের এক একটা স্বত্বা,
করোনা, সর্বনাশী, রাক্ষসী,
কেড়ে নিলি প্রাণ, ভেঙ্গে দিলি সংসার, ঘর,
তবুও থামাতে পারেনি, ওদের ” ভালোবাসাময় শেষযাত্রা “।………..

# করোনায় হারিয়ে যাওয়া সকল শহীদদের প্রতি শুভেচ্ছা
ও ভালোবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *