কবিতা

ডাঃ গোলাম রহমান ব্রাইট এর কবিতা || বেসামাল কাণ্ডারী

হৃদয়ের শুভ্র বাসনা বিলীন হলো বিমূর্ত কোন ক্ষণে
নূন্যতম প্রত্যাশাও লাঞ্ছিত হয়েছে তীর্যক বিলক্ষণে।
বিষাক্ত বাতাসে প্রবাহিত ধূম্রজাল নিরুদ্বেগ ধোঁয়াশা
দিকে দিকে অস্থির দীর্ঘশ্বাস উভয় নেত্রে ধুধু কুয়াশা।
.
অভিশপ্ত নিঃশ্বাসে প্রকম্পিত আকাশ,বাতাস ও ভূখণ্ড
দখিনা পবনে মিশেছে বিষাক্ত কীট স্তব্ধ হয়েছে দুদণ্ড।
সুক্ষ্ম ঘাতকের জ্বালাময়ী অদৃশ্য ঝাপটায় আসে ক্রন্দন
ছিঁড়ে গেছে আত্মীয়তা মাতা-পিতা-সন্তানের দৃঢ বন্ধন।
.
যেমনটি করে তুখোড় ঝড়ে ছিঁড়ে যায় নৌকার পাল
প্রচণ্ড তুফান আর দাপটে চূর্ণ এ ধরার প্রতিটি সকাল।
বেসামাল কাণ্ডারী,সম্মুখে ভাঙা মাস্তুল-কম্পিত হাত
অসুস্থ বাতাসে শঙ্কিত পৃথিবী গদ্যময় – ঘাতপ্রতিঘাত।
.
নিরানন্দ মানুষ তব বিষাদে বিহ্বল,উড়াল দিতে চায়
নিষ্কলঙ্ক খাঁচার পাখি তুল্য হৃদযন্ত্রটি হয়ে নিরুপায়।
বিধ্বস্ত উপকূলীয় সীমানা পেরিয়ে অজস্র মানবকূল
ওপারে পাড়ি জমিয়েছে; বিপর্যস্ততায় যে প্রাণ সংকুল!
.
অশনিসংকেতে খেয়াঘাট-হাসপাতাল-করিডোরে ধুকছে
কত প্রাণের উৎকণ্ঠা আর আহাজারিতে পাঞ্জা রুখছে।
বিপদের ঘনঘটায় প্রতিধ্বনিত এ ধরনীর দিগ্বিদিক চূর্ণ
জীর্ণ ক্ষণের পরিব্যপ্তিতে খণ্ডিত কাব্যে খতিয়ান শূন্য।
.
দর্পণ আজ চূর্ণ-নেই প্রতিবিম্ব, প্রতিচ্ছবি সে-তো বিষ্ময়!
চারিদিকে ক্ষুধা-তৃষ্ণা-উৎকণ্ঠা-মৃত্যুর ভয় চরম সংশয়।
অনুভবে মিশে থাকে দগ্ধ যন্ত্রণা হায়! এই নাকি জীবন!
আমিও ওপারে পাড়ি দেবো থামবে এ কলম আজীবন।
.
বিলীন হবে রচনা, থেমে যাবে বাঁশি-ইথারে হারাবে সুর
বীভৎস ধ্বংস স্তুপে পতিত হয়ে একদিন যাবো বহুদূর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *