ফিচার

নজরুলের বন্ধু সুধীরলাল চক্রবর্তী

রফিক সুলায়মান

বিরলপ্রজ শিল্পী সুধীরলাল চক্রবর্তী খুব স্বল্পায়ু নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। বেঁচেছিলেন মাত্র ৩৩ বছর। আধুনিক, রাগপ্রধান, গজল, ঠুমরী প্রভৃতি গানে পারদর্শী, খ্যাতনামা সঙ্গীত শিল্পী, সুদক্ষ সুরকার ও প্রশিক্ষক সুধীরলাল চক্রবর্তী। ১৯১৬ সালে ফরিদপুরে জন্মেছিলেন তিনি।

‘মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের বুকে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার, মাকে মনে পড়ে’ গানটিকে অমরত্ব দান করেছিলেন সুধীরলাল চক্রবর্তী। বড়ই পরিতাপ ও মর্মবেদনার বিষয় গানটির সুরকার ও দরদী শিল্পী সুধীরলাল চক্রবর্তী আজ প্রায় বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছেন। কবি নজরুলের বন্ধু, অসংখ্য কালজয়ী গানের সুরকার ও শিল্পী, সেরা সঙ্গীত শিক্ষক এবং গীতা দত্ত, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, উৎপলা সেন, শ্যামল মিত্রের মত সেরা শিল্পী গড়ার কারিগর সুধীরলাল চক্রবর্তীর কোনও জীবনী বা পরিচিতি এখন সহজে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ভারতের প্রতিবাদী ধারার জীবনমুখী শিল্পী কবীর সুমনের মতে ‘সূক্ষ্ম অলংকারসমৃদ্ধ আধুনিক সুররচনায় কাজী নজরুল ইসলাম ও হিমাংশু দত্তর পর তিনিই শেষ সম্রাট।’ আর গানের সঞ্চারী অংশে কারুকার্যময় সুরের ব্যবহারের তারিফ করেছেন স্বয়ং উৎপলা সেন।

তাঁর গাওয়া ও সুরারোপিত বহু গ্রামোফোন রেকর্ড বের হয়েছিলো। ১৯৪৩-৪৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। এই স্বল্প সময়ে ঢাকা বেতারকেন্দ্রকে ঢেলে সাজিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে আধুনিক গানে এই কেন্দ্রকে কলিকাতা কেন্দ্রের সমকক্ষ বানিয়েছিলেন। সুধীরলাল মারা যান পঞ্চাশের দশকেই। অকালে মারা যান। রেখে যান উৎপলা সেন, শ্যামল মিত্র, গীতা দত্তের মতো ছাত্রছাত্রীদের। আরও অনেক প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন তরুণ-তরুণী সুধীরলালের কাছে গান শিখতেন বলে জানিয়েছেন উৎপলা সেন একটি এলপির ভূমিকায়। প্রখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ ১৯৪৯ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মৃত্যুৃবরণ করেন। এ বছর তাঁর ৭০তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এই মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা পেশ করছি।
রফিক সুলায়মানঃ শিল্প-সমালোচক; এডমিন, প্রনস; ইউটিউব আপলোডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *