কবিতা

প্রতিভা প্রকাশ ছড়া-কবিতা প্রতিযোগিতা ০২ এর নির্বাচিত ৭টি ছড়া-কবিতা

বিয়েবাড়ি
শাজাহান কবীর শান্ত

 

বর সেজেছে হুলো বিড়াল বউ সেজেছে ইঁদুর,
এই খুশিতে তেলাপোকা পরছে মাথায় সিঁদুর।
এসব দেখে হাসছে দেখো টিকটিকি ওই চালে,
ছারপোকারা শাদিবাড়ি আসছে পালেপালে।
বর বাবাজীর লোভটা বেশী বড় বড় মাছে
খুঁজতে খাবার মাকড়শাটা জাল ফেলেছে গাছে।
মাছ কি থাকে গাছে বলো! মাছ তো থাকে খালে,
ব্যাঙের কথায় খলশে পুঁটি লাফ দে ওঠে জালে।
বিয়ের কেনাকাটা করতে গরম ওদিক বাজার,
ধুম পড়েছে দেখতে বিয়ে ধুম পড়েছে সাজার।
ওই তো দূরে বরের গাড়ী আসছে বড় চাকায়,
দেখতে এসব ইঁদুর ছুঁচো চুপিচুপি তাকায়।

 

মেঘের শাড়ি
তাহমিনা শিল্পী

 

তারপর আমি একমুঠো সফেদ মেঘ পেড়ে আনি,
জড়িয়ে নেই সারা গায়।
কোমল বাতাসে আঁচল উড়াই,
নেড়েনেড়ে দেখি কুঁচির শরীর।
অথচ,আমার আকাশের রঙ মনে নেই।
মনে নেই মেঘের ফাঁকেফাঁকে জমে থাকা চকচকে রোদ্দুর কিংবা ছায়াদেহ।
আকাশের বুকে উড়ে চলা-
কোন পরিযায়ী পাখির কথাও মনে নেই।
তবু ক্ষণেক্ষণে ব্রত ভঙ্গ হয় মৌণতার।
এলোমেলো তৃষ্ণারা হয় ছন্নছাড়া।
প্রার্থনা করি,আরও কিছুদিন বৃষ্টি হোক,
ঘুচে যাক মোহনার দুরত্ব।

 

 

স্বপ্নের ফাঁদে
মোস্তাফিজুল হক

 

নির্জন পথ নাগপাড়া ধাম বন্ধুর সাথে হাঁটি,
পথের দু’ধারে শঠিফুল যেন ঘোমটায় পরিপাটি।
পাড়ঘেঁষে নীচে লালপানা আর হাঁসেরা সাঁতার কাটে,
গামছায় বেঁধে মাথাখানা তাঁর কারা যেন নালা ছাঁটে?
রৌহার বিল স্মৃতি ঝিলমিল দোলায়িত ধানখেতে,
কতটা সময় রাখালের সুরে কেটে গেছে কান-পেতে!
শালিকের ঝাঁক মাছরাঙা আর চড়ুইয়ের ওড়াউড়ি,
দেখে যেন মন আনমনে হত আকাশের বুকে ঘুড়ি …!
এতকিছু দেখে মুগ্ধতা নিয়ে মাগরিবে ফিরি ঘরে,
জঙ্গলে ঘেরা বাড়িগুলো যেন আমাকে স্মরণ করে …
নেই বুনোলতা, নেই শঠিফুল, আছে সেই ধাম বটে!
সেইসব দিন খুব মনেপড়ে। দাগা দ্যায় স্মৃতিপটে!
রাত নেমে এলে চাঁদ বলে যেত জানলাটা রেখো খুলে,
শরতের রাতে দ্যাখো সাদা মেঘ ভাসে জোছনার ফুলে …!
নদীটার বাঁকে ডাহুকীর ডাকে হিজলের মেয়ে ঝরে,
রুপালি সে চাঁদ বিষাদের ভারে নদীতেই ডুবে মরে!
ঘুমায়েছি রাতে ধরা পড়ে গেছি – সেই স্বপ্নের ফাঁদে,
দুপুরে উঠেছি তেঁতুলের গাছে; ভূতেরা স্বপ্নে কাঁদে!
তাড়াতাড়ি ওঠে বিছানাটা ছেড়ে ভয়ে খিল খুলে ফেলি,
বাবা ডেকে কন, “কই যাস, বাবা? স্বপ্নেই ভয় পেলি!”
তেঁতুলের গাছ আগুনের পেটে চলে গেছে বহু আগে,
তবু তার স্মৃতি ঊষা হয়ে যেন চিরকাল ধরে জাগে!

 

 

প্রার্থনা
এম জি মহসিন

 

ঘরভর্তি ছড়ানো ক্ষুধা নিয়ে আমরা ঘুমাই
কষ্টভরা বালিশটা পাথরের মত চেপে পড়ে থাকে মাথার উপরে
আতংকের কাঁথা মুড়ি দিয়ে কেটে যায় রাত
আর ঘুণপোকার খাবার হয়ে যাওয়া খাটটা ক্ষুধার জ্বালায় অপেক্ষায় থাকে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার।
আমাদের নদীগুলো নিঃসাড় কেঁচোর মত পড়ে থাকে জলের আশায়
ভুভুক্ষু পেটগুলো একনরক ক্ষুধায় নিজের শুষ্ক ঠোঁট চাটে বারবার
কবে কোন উড়ন্ত কেকিলের মুখ থেকে পিছলে পড়বে এক ফোঁটা পানি
তাই খেয়ে ভরবে নদীর পেট!
যতসব ছেলেভোলানো রূপকথার গল্প!
তার চেয়ে চল সবাই খড়গের নিচে পেতে দিই
অবনত বিশ্বাস
চল অমোঘের কাছে আত্মসমর্পণ করে দেখি অসীম আকাশ
তুমুল বৃষ্টি প্রার্থনায়।

 

ভালো লাগে
হাসান ইবরাহীম

 

ভালো লাগে গোলাপের
সুভাসিত গন্ধ
ভালো লাগে কবিতার
মধুমাখা ছন্দ৷
ভালো লাগে ভোরবেলা
পাখিদের গান
ভালো লাগে কাব্যের
সুধামাখা তান৷
ভালো লাগে বর্ষার
রিমঝিম বৃষ্টি
ভালো লাগে স্রষ্টার
ফুল- পাখি সৃষ্টি৷
ভালো লাগে নীলিমার
ঐ নীলাকাশ
ভালো লাগে শরতের
সারি সারি কাশ৷

বে নী আ স হ ক লা
সারমিন ইসলাম রত্না

 

খুকু তোমার লম্বা চুলে
বেগুনী রঙ ফিতা,
খুকু তোমার নামের সাথে
আমার আছে মিতা।
খুকু তোমার নীল দুটো চোখ
আসমানী রঙ ছড়ায়,
খুকু তোমার মিষ্টি হাসি
আনন্দে মন ভরায়।
খুকু তোমার হলুদ চুড়ি
রিনিক ঝিনিক বাজে,
খুকু তোমার স্বপ্নগুলো
সবুজ আলোয় সাজে।
খুকু তোমার কমলা জামায়
টুকটুকে লাল ঠোঁটে,
ঝলমলিয়ে চতুর্পাশে
রংধনু রঙ ছোটে।
খুকু তুমি মেঘ সরিয়ে
আকাশ পানে তাকাও,
সাতটি রঙের পরশ দিয়ে
রংধনুটা আকাও।

ভাবতে হবে
রুহুলআমিন

 

দেখি যখন কেউ কখনো
জয় ছিনিয়ে আনে
লাগে তখন ভীষন ভালো
দোল খেলে যায় প্রানে ।
বাস্তহারা পথ শিশু
অন্নহীনার মুখ
দেখলে ও সব ভাল্লাগেনা
কেঁদে ওঠে বুক ।
কেউ জানেনা কোন শিশুটি
বিশ্ব গড়ার চাবি
তাইতো রাখে সব শিশুরা
অধিকারের দাবী ।
সুশীল শিশু গড়ার তরে
সবাই মিলে মিশে
ভাবতে হবে সব শিশুদের
জয় করা যায় কিসে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *