কবিতা জাহাঙ্গীর হোসেন/ বাপ্পি

ভণ্ডের দণ্ড|| দিলীপ গুহঠাকুরতা

এক যে ছিল ধূর্ত ভণ্ড মিথ্যেবাদী কৃপণ,
স্বার্থ সিদ্ধি করাই তার একমাত্র পণ।
গৃহের পানে ফিরছিল সে একদিন ঘোর সাঁঝে,
হারালো তার ষাটটি মুদ্রা ধূলোয় পথের মাঝে।
খোঁজাখুঁজি করেও প্রচুর পেলনা সেই অর্থ,
জানলো সবে চিৎকারে তার গলায় যা সমর্থ। 
“শুনুন সবে হারিয়ে গেছে অনেক টাকা-কড়ি,
যে পাবে তা, অর্ধেক ইনাম দেবো হিসেব করি।“
মনোকষ্টে পরের দিন থাকলো পড়ে ঘরে,
পাশের বাড়ির একটি ছেলে আসলো দ্বিপ্রহরে।
বললো হেসে পেয়েছে সে হারানো সেই ধন,
হারিয়ে যাওয়া মুদ্রা ষাটটি দেখেও ব্যাজার কৃপণ।
অর্ধেক ইনাম দিতে হবে – বুকটা যাচ্ছে ফেটে,
মিথ্যেবাদী ভণ্ড এবার নতুন ফন্দি আঁটে।
বললো রেগে “দেড়শ’ মুদ্রা হারিয়ে ছিলাম কাল,
বাকি নব্বই বের করো ভাই, নইলে খাবে গাল।“
এমন দাবী শুনে ছেলে আকাশ থেকে পড়ে –
‘যা পেয়েছি সবটা নিয়ে এলাম তোমার তরে।
টাকা পেয়েও ছল চাতুরী করছো কেন ভাই,
প্রাপ্য আমার দাওনা গুনে, আমার সময় নাই।‘
দুষ্ট লোকের মাথায় এবার নতুন বুদ্ধি খেলে,
কাজীর কাছে গেলো সাথে প্রতিবেশির ছেলে।
ছিলেন সেথা গ্রামের অনেক গণ্যমান্য জন,
ধূর্ত লোকটি বিস্তারিত করলো নিবেদন।
সকল শুনে কাজী সাহেব বলেন, ‘সবে শোন –
খুঁজে পাওয়া ষাটটি মুদ্রায় হক নাই তার কোন,
দেড়শ’ হৃত মুদ্রা যদি কেউ বা খুঁজে পায়,
ততদিন সে থাকবে বসে পরম অপেক্ষায়।
আপাতত ষাটটি মুদ্রা জমা আমি নেবো,
প্রকৃত মালিক পেলে তাকেই তখন দেবো।“
রায়টি শুনে স্বার্থপরের পড়লো মাথায় বাজ,
“শুনুন হুজুর ধর্মাবতার- সত্যি বলছি আজ,
ষাটটি মুদ্রা হারিয়েছিলাম কাল সন্ধ্যাবেলা,
অর্থ আমায় দেন ফিরিয়ে, শিক্ষা হলো মেলা।”
কাজী বলেন, “এখন তো আর সেটি হবে না কো,
দেড়শ’ মুদ্রা কখন পাবে, সে আশাতে থাকো।“
এমন করেই সবার মাঝে নাকাল হলো ভণ্ড,
বিজ্ঞ কাজীর বিচার গুণে পেলো সঠিক দণ্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *