সারাদেশ

মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিসৌধ ঘিরে এ কীসের আলামত!

 

রফিক সুলায়মান : কিছুদিন আগে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধিকে পার্ক বানাতে দেখেছি আমরা। ছুটির দিনে সাধারণ দর্শনার্থীরা সমাধি ঘিরে অমার্জনীয় আনন্দ-উল্লাসে মত্ত। আজ কোল্লাপাথর মুক্তিযোদ্ধা সমাধি কমপ্লেক্সের চেহারা দেখলাম। দেখে লজ্জিত হলাম।

কোল্লাপাথর বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সংসদীয় এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সীমান্তবর্তী গ্রাম। এর আগে তাঁর মহান পিতা সিরাজুল হক বাচ্চু মিয়া এই এলাকার সাংসদ ছিলেন। ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা। আরো পরিস্কার করে বললে বাচ্চু মিয়ার গ্রামের বাড়ী পানিয়ারূপ এবং কোল্লাপাথর প্রতিবেশী হওয়ার কথা।

এই ছবিগুলো কিসের আলামত বহন করে? উত্তর আমরা জানি। কিন্তু মুখে উচ্চারণ করতে পারি না। দিনে দিনে জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কমে আসছে। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে না পারি অন্তত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তাঁদের প্রাপ্য সম্মানটু্কু জানানো উচিত। যারা এই সমাধি কমপ্লেক্সের অমর্যাদা করছে তাদের সামনে ৭১’র শহীদদের অবদান তুলে ধরা উচিত। তারা হয়তো এই কমপ্লেক্সের ইতিহাস ও গুরুত্ব জানেই না! এখানে শায়িত আছেন দুজন বীর উত্তম, একজন বীরবিক্রম এবং দুজন বীর প্রতীকসহ মোট ৫০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। বীর উত্তম মইনুল হোসেনের নামে ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল সড়ক।

আনন্দের কথা মুক্তিযোদ্ধা সমাধিসৌধের জন্য জায়গাটি দান করেছিলেন একজন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে এই এলাকাটি মুক্তিযোদ্ধাদের অধীনে থাকায় যেখানেই কোন সহযোদ্ধা শহীদ হতেন, এখানেই সমাহিত করা হতো। পাশেই আগরতলা থেকে নামফলক বানিয়ে অস্থায়ী বেষ্টনীতে টাঙ্গিয়ে দেয়া হতো। সমতল ভূমি থেকে সামান্য উঁচুতে টিলার উপর এই শহীদ সমাধি কমপ্লেক্স। দেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি অন্যতম সাইট হিসেবে কোল্লাপাথর সমাদৃত।

লেখক : শিল্প-সমালোচক এবং নজরুল-কর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *