National

রফিক সুলায়মান এর লেখা || একাত্তরের বন্ধু জ্যাঁ কে

 

ফরাসী এই যুবকের নাম জ্যাঁ কে (Jean Kay). একাত্তরে বয়স ছিলো ২৮। এর আগে যুদ্ধ করেছে বায়াফ্রা এবং ইয়েমেনে।

১৯৭১ এ বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন ফরাসী দার্শনিক আন্দ্রে মারলো, এটা আমরা জানি। কিন্তু জ্যাঁ কে’র অবদান খুব অল্প কজন জানেন। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণায় যুক্ত, তাঁদের হয়তো জানা আছে।

১৯৭১, ৩ ডিসেম্বর। সেদিন জার্মান চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ট আসবেন প্যারিস ওরলিতে। জরুরী মিটিং ফরাসি প্রেসিডেন্ট পম্পিদুর সাথে। বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তা। এমন পরিস্থিতিতেও জ্যাঁ কে পিআইএ’র একটি ফ্লাইটে পাসপোর্ট ছাড়াই ঢুকে পড়েন। সাথে পিস্তল এবং একটি ব্যাগ, যাকে বিস্ফোরক বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ঘোষণা দিলেন, এই ফ্লাইট যাবে না। যেতে হলে বাঙালি শরণার্থীদের জন্য ২০ টন অষুধ এবং শিধুখাদ্য নিতে হবে।

জ্যাঁ কে’র দাবী মেনে নিয়েছিলো ফরাসী সরকার। রেডক্রসের লোকজন অষুধ তুললো বিমানে। শিশুখাদ্য তুললো। কিছু এন্টিবায়োটিক পাইলটের জিম্মায় দিতে চাইলে জ্যাঁ কে রাজি হলো। আসলে রেডক্রসের ছদ্মবেশে সবাই ছিলো কমান্ডো। জ্যাঁ কে ধৃত হন। কিন্তু ফরাসি সরকার ২০ টন অষুধ পাঠিয়েছিলো।

প্লেনের আরোহীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হলো। জ্যাঁ কে কারো দিকেই পিস্তল তাক করে নি। বিচারে ৫ বছরের জেল হলো। আন্দ্রে মারলো জ্যাঁ কে’র মুক্তির দাবী জানিয়েছিলেন।

ফরাসী এই বীরের জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন প্যারিস প্রবাসী শিল্পপতি কাজী এনায়েতউল্লাহ ইনু। ফ্রান্সকে ঘৃণা করার আগে বীর জ্যাঁ কে’র কাহিনী আমাদের জানা উচিত।

Leave a Reply