গল্প

রুবেল খান এর ছোট গল্প || অভিমান

কনকনে শীতের রাত।দশটা কি সোয়া দশটা বাজে।সাধারণত গ্রামের সবাই ঘুমে তখন।কিছু লোক চায়ের দোকানে থাকে হয়তো।ছোট একটা ঘরে থাকে হাসান নামের কুড়ি বছরের ছেলেটা।দর্শনে অনার্সে ২য় বর্ষের ছাত্র সে।খুব একটা স্বচ্ছ পরিবারের ছেলে নয় হাসান।তবে পড়া বেশ ভালো করে আসছে।

দেয়ালে ঘড়িটা ঢং ঢং করে চলছে।পড়া শেষে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফোন দেয় জারীনের কাছে।বড় লোকের মেয়ে জারীন।হাসান আর জারীনের প্রেমের সম্পর্ক প্রায় পাঁচ বছরের।দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসে।এক মুহুর্ত কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারে না।হাসান জারীনকে তিনবার কল দেওয়া পর রিসিভ করলো।
–হ্যালো।
–কেমন আছো?
–আলহামদুলিল্লাহ্,ভালো।তুমি?
–আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি।কি করো?
–পড়ি।তুমি কি করো?
–কেবল পড়ে উঠলাম।একটা বলবো।
–হুম,বলো।
–আগে বলো রাখবে।
–আগে তো শুনি।
–আজ একটু দেখা করতে পারবে?যেখানে আমাদে প্রথম দেখা হয়েছিল।অষ্টমী তলায়।
–এত রাতে।পারবো না আমি।
–আসো না।খুব দেখতে ইচ্ছা করছে তোমায়!
–কাল দেখা করি আমরা।একথা বলেই ফোনটা কেটে দেয় জারীন।

হাসান পাগলের মত বারবার কল দিতে থাকে জারীনকে।আর জারীন বারবার কল কেটে দেয়।একসময় নাম্বারটা ব্লাকলিষ্টে রাখে।তখন আর হাসান কল দিলেও যায় না।তারপরও পাঁচ মিনিট পরপর ফোন দিতে থাকে হাসান।ভাবে যদি নাম্বারটা সরায় এখন।কিন্তু না জারীন ব্লাকলিষ্ট থেকে আর নাম্বারটা সরায় নি।

দুর মসজিদে মোয়াজ্জিনের শ্রুতি মধুর ফজরের আযান শুনা যায়।পাখিরা জাগে।বাড়ির মুরগ-মুরগি ডাকে।সকালে ঘুম থেকে উঠেই জারীন ফোন করে হাসানকে।রিং হচ্ছে,ফোন বেজে চলেছে।কোন সারা নেই।অথচ হাসান প্রতিদিন ফজরের আগে জারীনকে ফোন দিয়ে জাগাতো।আর আজ ফোন রিচিভ করছেনা।জারীন ভাবে হয়তো রাতের ব্যবহারে রাগ করেছে।একটু পরে কল ফোন দেব আবার।

সকাল দশটা বাজে।হাসান তবুও ফোন দিল না।জারীন এবার মনের ভেতর রাগ নিয়ে ফোন দেব।আর মনে মনে বলে,ফোনটা ধরুক।ইচ্ছামতো বকা দেব রাজকুমারকে।তারপরও কোন সারা নেই।জারীনের খুব খারাপ লাগছে।আমি রাতে দেখা করিনি বলে তুমি এত শাস্তি দিবে আমায়!

জারীন খুব মন খারাপ করে দুপুরের নামায পরে আবার কল দেয় হাসানের কাছে ফোন দেয়।হাসানের মা ফোন রিচিভ করে।
–আস্সালামুআলাইকুম।
–ওয়ালাইকুম সালাম।
–কে বলছেন?
–আমি জারীন।হাসানের বন্ধু।একটু হাসানকে দিবেন।
–কান্নারত আঁখিতে মা বলে,ও তো আর নেই মা।গতরাতে মারা গেছে।হাসানকে দুটার সময় মাটি দেওয়া হলো।এ কথা বলেই মা আবার কাঁদতে থাকে।
–আর এপাশে মোবাইল হাতে জারীন নিজেকে খুব ধিক্কার দেয়!আর নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে এমন করে কেউ অভিমান করে!

শেরপুর,বাংলাদেশ।
তাং ২০.০১.২০১৮ খ্রিঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *