কবিতা /বাপ্পি

শর্মি ভৌমিক || শত জীবনের ছবি দেখেছি বৃদ্ধের ঐ দুটি চোখে

না, আজ আর কিছুরই প্রয়োজন নেই আমার,
উঠোনজুড়ে খেলে যায় সোনালী রোদ্দুর!
ঝলমলে আলোর মাঝেও
শুনতে পাই সহস্র জীবনের কান্নার সুর!
তবুও স্বপ্ন দেখি সীমাহীন আকাশ ছোঁয়ার।
প্রতিদিন ছেঁড়া আঁচল গায়ে জড়িয়ে
মসজিদের পাশে পথের মাঝে বসে থাকে যে বৃদ্ধাটি,
দু’ টাকা ভিক্ষে পেতেই
খড়খড়ে শুকনো ঠোঁটে আমি তার তৃপ্তির হাসি দেখি! 
বলেছিলো সেদিন হাড্ডিসার বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালাটি
এক টগবগে যুবকের বাবা তিনি,
কি যেন চাকরিও করছে ছেলেটি!
ভিনগাঁয়ে সুখের সংসার পেতেছে সাথে নিয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী! 
সেখানে বাবা নামক বৃদ্ধটির জায়গা হয়নি শুধু!
লোকটির শীর্ণ চোখে ক্লান্তি ছিলো না একবিন্দু,
গভীর ক্ষোভও দেখিনি চোখের চারিপাশে ! 
গায়ে বোতামবিহীন বিবর্ণ জামাটি তার
ঘামে ভিজে যখন একাকার,
হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে চলছিলো সে প্রাণপণ!
ততোক্ষণে দু’চোখ অশ্রুতে ভিজে গেছে আমার!
প্যাডেল থামিয়ে দিতে বলে
ক্ষাণিক তাকিয়ে আমি দেখছিলাম নির্জীব মানুষটিকে,
রমনার বটমূলে শীতল ছায়ায় বসে
জীবনের কথা শুনবো বলে হাতটি ধরেছি তার  অবশেষে।
সকরুণ নিদারুণ সাতকাহন বলেছিলো সে বিদ্রূপমাখা হাসি হেসে,
বটবৃক্ষের পাতারাও মর্মরে উঠেছিলো কেঁপে কেঁপে!
হঠাৎ ঝিরিঝিরি বাতাসেরাও গিয়েছিলো যেনো থেমে!
বলেছি আমি তাকে, বাবা নেই আমার;
সে চলে গেছে আমাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে!
তুমি বাবা হবে আজ থেকে?
আমার কথা শুনে
বৃদ্ধ লোকটি লাফিয়ে উঠেছে কি মনে করে, কে জানে!
আনন্দের হাসি হেসে
আরেক পশলা কেঁদেছিলো বুঝি শেষে!
তারপর বললো, শুনেছি আমার ছেলেটি
বাবা হতে পারবে না কোনদিনই!
মসজিদের কোণে তার মা ভিক্ষা করে ঠিকই,
দোয়া মাগে বসে খোদার কাছে সন্তানেরই লাগি!
ছেলেটি যেন তার বাবা হতে পারে,
দাদী হওয়ার লোভটা বুঝি
মাঝেমাঝেই জেগে ওঠে তার অন্তর জুড়ে!
বুঝলি মা,
বাবা- মা হওয়ার জ্বালা যে কি!
ওদেরওতো বোঝার দরকার আছে, না কি?
বুঝলাম তখন আমি চেয়ে তার গহীন চোখের ভাঁজে,
অভিমানগুলো লুকিয়ে আছে ;
দীর্ঘশ্বাসে ভরা দহন-পোড়া ঐ পৌঢ় বুকের মাঝে!

3 Replies to “শর্মি ভৌমিক || শত জীবনের ছবি দেখেছি বৃদ্ধের ঐ দুটি চোখে

  1. দিদি অসাধারন লিখেছেন অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো সম্পুণ লেখাটা মনযোগ দিয়ে পড়েছি অনেক ভালো লাগলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *