গল্প

সাব্বির হোসেন বাপ্পি’র গল্প || মধ্যবয়সী এক মেয়ের প্রেম কাহিনী

 

হঠাৎ মধ্যরাতে আমার চেট লিষ্টে থাকা অনেকদিন ধরে এক মধ্যবয়সের মেয়ে, কোন দিন কথা হয়নি আমার সাথে। হঠাৎ করে আমাকে মেসেনজারে নক করলো! আপনার কি সময় অাছে ভাই? সময় থাকলে আমার কলেজ জীবনের একটি কাহিনি বলতে চাই আপনাকে। আমি চমৎকে উঠলাম। কোনদিন কথা বলা হয়নি,,হঠাৎ এরকম প্রশ্ন,,ভাবলাম! এখন যদি তার কথা গুলি না শুনি তাহলে মেয়েটা মনে কষ্ট পাবে। বললাম ঠিক আছে আপনার কথাগুলি বলেন, আমি শুনবো!!
আমাকে বলে আপনাকে আমি প্রতিদিন দেখি গভীর রাত পযন্ত অনলাইনে থাকেন! অামার মনে হয় আপনি খুব বিষন্নতায় ভুকছেন।আচ্ছা আপনার মনে হয় কোন প্রেমিকা আপনাকে কষ্ট দিয়ে চলে গেছে। আপনার সব কবিতা অামি পড়ে বুঝেছি। আচ্ছা আমার কথাটি কি ঠিক বলেছি?
আমি মেয়েটিকে কোন উত্তর দিলাম না,,শুধু বললাম। আমি একাকীত্ব কে খুব ভালোবাসি। তাই সবাই যখন ঘুমে থাকে তখন আমি জেগে থাকি এটা বলেই আমি মেয়েটিকে বললাম,আচ্ছা আপনার কথা শুনা যাক এখন বলেন।
মেয়েটি বললো, আমাদের উপজেলাতে আমি এক নামে পরিচিত ছিলাম, চেহারা ভালো ছিলো তাই সবাই সুন্দরী বলে ডাকতো! একজীবনে অনেক ছেলে আমার পিছু নিয়েছে, কিন্তু আমি তখন এসবের ভেতরে থাকতাম না, বা এসব বুঝতাম না। হঠাৎ আমার জীবনের প্রথম কলেজে উঠা, প্রথম দিন কলেজে যাই আমার মামীর সাথে, কলেজ গেটের সামনে বৃষ্টির কারনে অনেক পানি জমে থাকে। তাই অনেক মানুষের ভীর জমে থাকে। কলেজ গেটের একপাশে কিছু ছেলে দাঁড়িয়ে ছিলো তাদের মধ্যে একটি ছেলে শুধু আমার দিকে তাঁকিয়ে ছিলো।আমি বোঝতে পারলাম।ছেলেটিকে এক নজর দেখলাম,অনেক লম্বা, গায়ের রং হইলদা পাখির মতো। তেরে নাম মুভির নায়কের মতো চুল, মাঝ খানে সিঁথি করে রাখছে। এতটুকু দেখে আমি আর তার দিকে তাঁকাইনি। আমার পাশে মামী ছিলো। মামী যে ছেলেটিকে আগে থেকে চিনতো তা আমি কোনদিন জানতাম না।পরে আমি কলেজে ডুকে পড়লাম,,কিন্তু ছেলেটি কে আর দেখতে পেলাম না,,ছেলেটি কলেজে না গিয়ে মামীর কাছ থেকে আমার নাম্বারটি নিয়ে গেলো। ক্লাস শেষ কলেজ থেকে বাহির যাচ্ছি দেখি ছেলেটি একাই দাঁড়িয়ে আছে। আমার দিকে তাঁকালো, কিন্তু কিছু বললো না,,আমি মামীর সাথে বাসায় চলে গেলাম। কলেজে কি হলো আমি কিছু মনে করলাম না,,বাসায় এসে নিজের সব কাজ শেষ করে রাত্রীতে যখন বিছানায় নিদ্রায় যাই,,তখন অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে,,আমি ফোনটি রিসিফ করা মাত্রই চুপ করে রইলো। কোন শব্দ নেই।হঠাৎ করে বলে উঠলো আমি সেই কলেজ গেটে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে। আমি ফোন কেটে দিলাম। তখন আমাকে বলতেছে, জানেন সাব্বির ভাই। সেদিন রাতে আমাকে ২৮০ বার ফোন দিয়েছিলো। আমাকে যতবার বলতো আমি আপনাকে ভালোবাসি। ততবার আমি তাকে না করে দিতাম। এভাবে আমার পিছু লেগে থাকে সব সময়। আমি কলেজে গেলে দূর থেকে আমার দিকে তাঁকিয়ে থাকতো। আমার জন্য তার সব বন্ধু বান্ধবদের সাথে চলা ফেরা বাদ দিয়ে দিলো। শুধু অামার পিছু ছুটে বেড়াতো। আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করতো। জানেন সাব্বির ভাই! আমার এখনো মনে আছে ছেলেটি কি নামে প্রথম আমাকে ডেকেছিলো। জানেন সাব্বির ভাই! সেই ডাকটা আমি আজ ও ভুলতে পারিনাই। এতটা পাগলামী করতো,,যে আমার জন্য সব কিছু করতো। আমাকে পাবার জন্য, কিন্তু আমাদের পরিবারটা এসব পছন্দ করতো না। মা এসব শুনে অামাকে হঠাৎ অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিলো। আমি আর কলেজে যাইনা,,এদিকে ছেলেটি আমাকে যখন কলেজে দেখতে না পায়,,তখন আমার খুঁজে বের হয়। কিন্তু শুনে আমার বিয়ে হয়ে গেছে। জানিনা তখন ছেলেটির কি অবস্থা হয়ে ছিলো। কিন্তু অামার বিশ্বাস ছিলো ছেলেটি হয়তো কোন ক্ষতি করে ফেলছিলো তার। জানেন সাব্বির ভাই!! বিয়ে হওয়ার পর মেয়েরা সব সময় স্বামীর ভালোবাসায় আসক্তি হয়,,কিন্তু কেমন যেনো আমার তা না হয়ে ঐ সময়টা বেশি বেশি সেই কলেজের ছেলেটির কথা মনে পড়ে। সব সময় মনে পড়ে। কিন্তু বিয়ের আগে তখন কোন ভাবে তার কথা মনে পড়তো না। কিন্তু এখন এমন হচ্ছে কেনো?? কইতে পারবেন সাব্বির ভাই? অামি কিছু বললাম না চুপ করে রইলাম,,অার কেমন যেনো অামার মনটা থমকে উঠলো। যাই হোক অামি মেয়েটিকে বললাম তার পর কি হলো? পরে আমাকে বললো আমি অনেকদিন চেষ্টা করলাম তাকে মন থেকে ভুলে যেতে কিন্তু পারিনা,,না পেরে হঠাৎ একদিন ফোন দিলাম ছেলেটিকে। তখন অামার ছেলে হয়ে গেছে,,ছেলের বয়স ছিলো দু মাস। তখন ফোন করলাম,, আমাকে প্রথমে চিনতে পারলোনা। পরে পরিচয় দিলাম তখন চিনে ফেললো। বললো কেমন আছো? আমি বললাম ভালো আছি। আমার পরিবারের সব কথা শুনলো। পরে ছেলেটি আমাকে বললো,,জানো অামি তো বিয়ে করেছি,,সাতাশ দিন হয়ে গেলো। অামার বউ টি ঠিক তোমার মতোই দেখতে। কথাটি শুনে তখন মনের অজান্তে একটু কষ্ট পেলাম। চোঁখটা মুছে কথা বলা শুরু করলাম। কেমন যেনো সে ব্যস্ততা দেখাচ্ছে আমাকে,, আমি বুঝে ফেললাম,,সে আর আগের মতো নেই,,কতটা পাগল ছিলো আমার জন্য,আর আজ অনেকদিন পর আমি নিজে ফোন করলাম,,তাও প্রথমবার আমার ফোন থেকে তাকে ফোন করা,,তবুও সে ব্যস্ততা দেখালো। পরে অামি বললাম আচ্ছা নতুন জীবনে সুখি হোন দোয়া রহিলো।পরে ছেলেটি উত্তরে বললো আচ্ছা তোমাকে ধন্যবাদ। এবার ফোনটা রাখি। বলেই কেটে দিলো। আমি ঐ দিন রাতে একফোঁটা ঘুমাতে পারিনি,,পাশে আমার ছেলে শুয়ে অাছে,,ব্যবসার কাজে স্বামী বাহিরে ঘুরাফেরা করে,,মধ্য রাতে আমার চোঁখে শুধু পানি ঝড়ছে অবিরত। কোনভাবে মেনে নিতে পারছি না ছেলেটির বিয়ের কথা, বিশ্বাস হয় না যে ছেলেটি বিয়ে করেছে,,আমি তখনি আমার সেই মামীকে ফোন দিলাম,,মামী ফোন রিসিফ করে বলে এতরাতে ফোন দিয়েছো কোন সমস্যা? অামি মামীকে বললাম না মামী,,তোমার কি মনে অাছে সেই ছেলেটির কথা,,তখন মামী বলে উঠলো হ্যাঁ মনে অাছে।ছেলেটি তো কিছুুদিন আগে বিয়ে করেছে,,ঠিক তর মতো দেখতে মেয়েটি। তখন অামি কিছু না বলে ফোনটি কেটে দিলাম। সারারাত ঘুমালাম না।
জানেন সাব্বির ভাই? আজ আমার স্বামী আছে দুটি সন্তান আছে, সন্তানগুলা বড় হয়ে গেছে। কিন্তু কেমন জেনো মনে হয় কিছু একটা নেই অামার। ঠিক আপনার মতো আমি সব থাকতে একা হয়ে গেছি।
জানেন সাব্বির ভাই ? আমি আজ ও পযন্ত ছেলেটিকে ভুলতে পারিনি,,এবং ছেলেটির সেই নাম্বারটাও ভুলতে পারিনি,,মাঝে মাঝে ফোন করি,,কিন্তু ফোনটি বন্ধু পাই সব সময়।
আমি মেয়েটির কথাগুলি শুনতে শুনতে হঠাৎ অনুভব করলাম আমার চোঁখ দিয়ে বেয়ে পড়ে যাচ্ছে অবিরত ঝল। গাল বেয়ে শরীলে পড়ছে,,আমার ভাষা হারিয়ে ফেললাম,,বোবা হয়ে গেলাম কিচ্ছু বলতে পারছি না। হঠাৎ ও পাশ থেকে মেয়েটি মেসেজ দিলো,,বললো কি হলো সাব্বির ভাই, চুপ করে আছেন যে কিছু বলছেন না। আমি কিছু না বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু বললাম,,হ্যাঁ আপু আপনি বলেন আমি শুনতেছি।
তখন বলে উঠলো আজ আমার বয়স মধ্যপাড়ে চলে গেছে,,ছেলে মেয়ে বড় হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করেন সাব্বির ভাই! একটা সেকেন্ডের জন্য ভুলতে পারলাম না তাকে।
এই বলে আমাকে বলতেছে,,ভোর হয়ে গেছে টের পাইনি আপনাকে কষ্ট করে রাত জাগালাম। ক্ষমা করবেন আমাকে ঘুমান এখন। এ বলে সে বিদায় নিলো। কিন্তু কেমন জেনো আমি ঐ সময়টা কোনভাবে ঘুমাতে পারলাম না। আমি শুধু মেয়েটার কথায় এতটুকু বুঝলাম,,পৃথিবীতে সব ভালোবাসা মনে হয় এভাবেই হ্নদয়ের এ কোণে জমে থাকে। কেউ দেখতে পায় না।

Leave a Reply